নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে আমি নিজেসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এলাকা শান্ত রয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বশির মাতুব্বরের বাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হাবিবুর রহমান ওরফে হবি মেম্বারের সমর্থকরা। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে তাঁরা বাঁশের আড়াটি খুলে দেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। পরে বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির পর সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুর করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বশির মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, বাঁশের আড়া খোলার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তাঁকে দায়ী করে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় তাঁর বাড়ির দুটি ঘর ও সীমানার টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাবিবুর রহমান ওরফে হবি মেম্বার বলেন, পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না। তবে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি নিজেসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।