1. almoazzintv@gmail.com : Moniruzzaman Monnu : Moniruzzaman Monnu
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

বোয়ালমারীতে বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত লোহার মালামাল টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি, উদ্ধার করল প্রশাসন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ Time View
3

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত লোহার বেঞ্চ, জানালা ও অন্যান্য মালামাল টেন্ডার ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে মঙ্গলবার? ৫ আগস্ট) রাত ৭টার দিকে মালামাল বহনকারী ট্রাক আটকে দেওয়া হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেগুলো উদ্ধার করে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে রাখা হয়।

জানা গেছে, গত ৬ জুলাই বিদ্যালয়ের চারটি পরিত্যক্ত ভবনের টিন, ইট, দরজা, জানালা ও লোহার অ্যাঙ্গেল উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই টেন্ডারের আওতার বাইরে থাকা বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত লোহার বেঞ্চের অ্যাঙ্গেল, একটি বড় লোহার জানালাসহ প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল আলাদাভাবে কোনো টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, টেন্ডারের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। সেখানে শুধু পরিত্যক্ত চারটি ভবনের মালামাল বিক্রি করা হয়। পরে দেখি একটি ট্রাকে বিদ্যালয়ের লোহার বেঞ্চের অ্যাঙ্গেল ও বড় লোহার জানালাসহ অতিরিক্ত মালামাল তোলা হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ট্রাকটি গোহাইলবাড়ী বাজারে আটকে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে মালামাল উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে রাখেন।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা ছাড়া আমি কোনো কাজ করি না। তবে তিনি টেন্ডার ছাড়া প্রায় ১৩ হাজার টাকার লোহাজাতীয় মালামাল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, একজন আত্মীয় অসুস্থ থাকায় আমি দুপুরের দিকে বিদ্যালয় থেকে চলে যায়। পরে কি কি বিক্রি হয়েছে, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি প্রকৌশলী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে টেন্ডারের আওতার বাইরে থাকা অতিরিক্ত কিছু লোহার মালামাল উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগের আগে তাঁর কাছ থেকে কোনো ছুটি নেননি। বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category