জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুমামতো অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভূকম্পনের ফলে বহু ভবন ও অবকাঠামো ধসে পড়েছে।ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ভূকম্পন আঘাত হানার পরপরই ৩ জনের মৃত্যুর কথা জানা গেলেও পরে তা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছায়। টোকিওতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন।
আমরা সর্বশক্তি দিয়ে যত বেশি সম্ভব মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের কুমামতো শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। ভূমিকম্পের সার্বিক প্রভাবে পুরো অঞ্চল জুড়ে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
কুমামতো ও নাগাসাকি প্রিফেকচারের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরো শক্তিশালী আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে প্রখ্যাত সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক ‘টোকিও ইলেকট্রন’ এবং গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হোন্ডা’ তাদের স্থানীয় কারখানার কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগ্নেয় বলয়ে অবস্থিত হওয়ায় বিশ্বের ২০ শতাংশ বড় ভূমিকম্পই জাপানে ঘটে থাকে। এই সাম্প্রতিক দুর্যোগটি ২০১৬ সালের কুমামতোর সেই বিধ্বংসী ভূমিকম্পের স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে, যাতে ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ঐতিহাসিক কুমামতো দুর্গসহ বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।