ধর্ষণের শিকার-

#
শারমীন রেজা লোটাস
রাজবাড়ী মহিলা পরিষদ
সংগঠন সদস্য #
মোমবাতি জ¦লছে
জ¦লছে মায়ের বুকের পাঁজর
মিছিল চলছে রাত দুপুরে
তাতে হয়েছে টা কি!
ফিরবে কি আর ধর্ষিতা নারী!
শাস্তি পাবে কি ধর্ষক!
আর কত নোংরামর দর্শক হতে হবে এজন্মে জানিনা……… মানুষ হয়ে জন্মাতে ঘেন্না করে আজ। দিনের পর দিন দেখছি জানোয়ারের চেয়েও কিছু অধমের সাজ। জানিনা, ফুলের পাঁপড়ি গুলো ছিঁরে বিবস্ত্র করে, ফালাফালা করে, রক্তাক্ত করে দিয়ে কেমন স্বাদ মেটায় শকুনের দলগুলো??? এবার হোক বিদ্রোহ, নারী পুরুষ সম্মিলনে উঠুক এবার ঝড়, ফাঁসি তাদের ভয় করেনা পুরুষাঙ্গ ছাঁটাই করা হোক এবার। সিরিয়াল সিনেমায় হিরো না হয়ে এবার নারীরা হতে কাটারী ধরো, এবার নিজের জন্য নিজে লড়াই করো। সরকার কি এখোন বোবা হয়ে শুনবে ধর্ষিতাদের লিস্ট ঠান্ডা ঘরে??? আজকে ফুঁসবে শহর খবর শুনে কাল চলবে সাইড কোরে। কত ঘটনা ঘটছে এমন মিডিয়ার বাইরে, পরিবার গুলো ভাসছে নোনতা জলে… চাই মোমবাতি মিছিলের সঙ্গে এবার মানবিকতায় আগুন জ¦লুক, ফাঁসির আগে রক্তের বদলে এবার না হয় রক্ত ঝরুক।
বর্তমানে সমাজে প্রতি নিয়ত মানুষ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।
ধর্ষণের শিকার-
বর্তমান সময়ে ধর্ষণের শিকার নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হচ্ছে। এমনকি তিন থেকে চার বছরের বাচ্চা অথবা ৮ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের ধর্ষণের শিকার হচ্ছে এ নিউজ গুলো প্রতিনিয়ত টিভি চ্যানেল সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখা যাচ্ছে। ধর্ষণের শিকার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে মেয়েরা ভালো মতো পোষাক পরিধান করে যদি চলাফেরা করে পর্দার মধ্যে থাকে তাহলে এর সংখ্যাটা অনেকটাই কমে আসবে এবং অপরিচিত ছেলেদের সাথে মেলামেশা করলে ধর্ষণের শিকার কমে আসবে।
স্মার্টফোন নিজেই যখন উদ্দীপক-
সবার হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। যে তিনবেলা খাবার জোগাড় করতে পারে না, তার হাতেও স্মার্টফোন। নেশাদ্রব্যের মতো স্মার্টফোনের মধ্যে রক্ষিত বিনোদন সামগ্রী প্রতি মূহূর্তেই প্রতিটি যুবককে ইন্দ্রিয় লালসায় উন্মত্ত করে তুলছে। স্মার্টফোন যত সহজে একজনকে উত্তেজিত করতে পারে, এমনটি এর আগে কোনো যন্ত্র করতে পারেনি। ফলে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের সব দুয়ার বন্ধ হয়ে গেছে। মাদকের ব্যাপারে আইনি বাধা থাকলেও স্মার্টফোনের ব্যাপারে আইনি কোনো বাধা নেই। অথচ স্মার্টফোন যে মাদকতা আনতে পারে, তার পরিণতি খুবই ভয়ানক। স্মার্টফোনের মেসেঞ্জারে যে পরিমাণে ইভ টিজিং চলছে, তা অন্য সব মাধ্যকে হার মানায়।
সিষ্টেম ক্রাইসিস-
আমাদের মিডিয়া, প্রচারমাধ্যম, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে যে ছকে বেঁধে রাখা হয়েছে, সেই ছকের মধ্যে অদ্ভুত অমানবিকতার চর্চা রয়েছে। সব ছকই চলছে পুঁজিবাদী আর বস্তুবাদী কায়দায়। মিডিয়ায় নারী হলো আনন্দ-বিনোদনের এক মোহনীয় বস্তু। ফলে নারী নিজেই নিজেকে উচ্চতর সত্তা ভাবতে পারছে না। এমনভাবে নারীকে চিত্রায়িত করা হচ্ছে যেন নারীর কাজই হলো নিজেকে রূপসজ্জায় ভোক্তা। এভাবে মিডিয়া নারী ও পুরুষ উভয়কে মোহাচ্ছন্নতার জালে আবদ্ধ রাখছে। আর এ ধরনের মিডিয়াকে দেয়া হচ্ছে অপার স্বাধীনতা। কেননা বহুজাতিক কোম্পানির পুঁজিবাদী বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে চাঙ্গা রাখতে এরূপ নি¤œমানের স্বাধীনতারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা দেয়া হয়েছে।
ফ্রয়েডীয় চেতনার বিশ^ায়ন-
আমরা কমবেশি ফ্রয়েডীয় চিন্তা-চেতনার অনুগামী হয়ে পড়েছি। আধুনিক শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির অবাধ প্রসারে ফ্রয়েডীয় ধ্যান-ধারণার ব্যাপক বিস্তার হচ্ছে। ফ্রয়েডীয় লিবিডো ধারণাকে অতি বেশি কাজে লাগাচ্ছে পুঁজিবাদী মিডিয়া-জগত। ফলে কামুকতার চর্চাকে আত্মনিয়ন্ত্রণের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যৌন উত্তেজনাই যখন আধুনিক ঘরানায় নৈতিকতা, তখন বহুবিধ সম্পর্ক, পরকীয়া আর ব্যভিচারকে সামাজিক বৈধতা দেয়া হয়। যারা কৌশলে তা রপ্ত করতে পারে, আধুনিক ধারণায় তারা অপরাধী নয়, কিন্তু যারা বিভিন্ন করাণে তা রপ্ত করতে পারে না, তারা এক অদ্ভুত অবদমন বা মানসিক অস্থিরতা অনুভব করে।
ধর্মের নামে অসংলগ্ন বয়ান-
প্রচলিত সমাজে যে ধর্মীয় বয়ান চলছে, তাতে অনেক বেশি প্রাজ্ঞতার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। সমস্যাটা হলো ব্যখ্যার মধ্যে। কেননা যারা ব্যাখ্যা করছেন, তাদের মধ্যে রয়েছে সূ²দর্শী বিশ্লেষণের অভাব। বয়ানে নারীদের যেভাবে হিজাবের ব্যাপারে উচ্চ সতর্ক হতে বলা হয়, সেভাবে পুরুষদের লক্ষ করে বলা হয় না। তাছাড়া নারীর বেপর্দাকে যেভাবে দায়ী করা হয়, সেভাবে পুরুষের বেপর্দাকে দায়ী করা হয় না। ধর্ষণের ক্ষেত্রে আক্রমণকারী যেহেতু পুরুষ, সেক্ষেত্রে কী করে পুরুষরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কীভাবে নারী ও পুরুষ নৈতিকাতার চর্চা করতে পারে-এ নিয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের অভাব লক্ষ করা যায়। এটাকে কেবল ঘটনা হিসেবে দেখলেই হবে না। কেননা ২০১৯ সালে ঢাকা মহানগরের ৫০ টি থানা এলাকায় ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে প্রায় ৫০০ (৪৯৮) মামলা হয়েছে। এর মধ্যে গণধর্ষণের মামলার সংখ্যা ৩৭ টি। এই যদি হয় পরিসংখ্যান, তাহলে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, নারী নিপীড়ন যে কী হারে বেড়ে চলেছে, তা সহজেই অনুমেয়। এ থেকে আরো স্পষ্ট যে ধর্ষণ এখন আর কোনো অস্বাভাবিক ও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা নয়; বরং এটি এখন মহামারী হয়ে গেছে।
ধর্ষণ একপ্রকার যৌন অত্যাচার। সঙ্গী বা সঙ্গিনীর উচ্ছার বিরুদ্ধে বা অনুতি ব্যতিরেকে যৌনাঙ্গের মিলন ঘটিয়ে বা না ঘটিয়ে যৌন সংগমে লিপ্ত হওয়াকে ধর্ষণ বলা হয়। সাধারন ভাবে ধর্ষণ বলতে বুঝায়, নারী বা পুরুষ যে কোন একজনের অমতে জোর পূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে। তবে আমরা যে সমাজে বাস করি তার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের শিকার শুধুমাত্র নারীরা। ধর্ষনের প্রতিকার করতে হলে সর্বপ্রথম নারী ও পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।
চারিদিকে করছে আর্তনাদ
বৃদ্ধা, যুবতী, নিষ্পাপ শিশু
অমানুয় গুলোর হাত পা থেকে পায়না
রাক্ষা বনের অবুঝ পশু।
যৌন লোভের মোহে তারা
ছাড়ে না শিশু, বৃদ্ধ মাকে
অসহায়ের উজ্জত নিয়ে
হায় প্রাণেই মারে তাকে।
বিবেক তাদের লোপ পেয়েছে
হয়েছে হিং¯্র জানেয়ার
ধর্ষণের পর ধর্ষন করেছে
যেন তাদের অধিকার।
ধর্ষণের ধর্ষণে মাতে আর
দর্শক থাকি সব মোরা
চোখের সামনে অন্যায় দেখেও
কি চুপ থাকবি তোরা?
ধর্ষন করেও পায়না সাজা
ঘোরে বুক ফুলিয়ে তারা
মামার জোরে টাকা জোরে
পেয়ে যায় তারা ছাড়া।
সমাজ থেকে নির্মূল করতে
চাও যদি ধর্ষক, ধর্ষণ
সবার আগে করতে হবে
মন মানসিকতার পরিবর্তন।
নারী-পুরুষ সম্পর্কের মধ্যকার সহিংসতা কমাতে হলে পারিবারিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতার ভিত তৈরি করতে হবে। পরিবারের ছোটদের ভেতর মূল্যবোধের বীজ বপন করতে হলে বড়দের প্রাত্যহিক জীবনে সেটার অনুশীলন থাকতে হবে। কারণ, আদেশ, নির্দেশ ইত্যাদির চাইতে শিশুরা দেখাদেখি, অর্থাৎ পর্যবেক্ষণের মাধ্যম সবচেয়ে বেশি ভালো শেখে।
এ ক্ষেত্রে পরিবারের হাত ধরেই শিশুরা শিখবে অন্যের অনুভূতিকে কীভাবে গুরুত্ব দিতে হয়, নিজেদের নেতিবাচক অনুভূতিগুলোকে কীভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হয়, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনগুলোর ব্যাপারে জানবে- সব লিঙ্গ, পেশা, জাত ও ধর্মের মানুষকে কীভাবে সম্মান করতে হয় এবং নিজের ও আশপাশের মানুষের জীবনের দায়িত্ব কীভাবে নিতে হয়।