দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে তিল তিল করে গড়া শিক্ষার আলো ছড়ানোর পাট চুকিয়ে অবশেষে অবসরে গেলেন ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবীণ সহকারী শিক্ষক বাবু মনোজিৎ মজুমদার। বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবন শেষে তাঁর এই বিদায়লগ্নে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ৩০ জুলাই বিদ্যালয় মিলনায়তনে এই শিক্ষকের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে এক আবেগপ্রবণ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক জনাব মো. হালিম মোল্যার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মনোজিৎ মজুমদারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও অবদানের কথা তুলে ধরে মানপত্র পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবু সুশান্ত কুমার বিশ্বাস। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বাচ্চু মোল্যা, মো. নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করে আসা এই শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা বলেন, মনোজিৎ মজুমদার শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর অবদান বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর এই অবসর বিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে শিক্ষক মনোজিৎ মজুমদার তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ৩১ বছর এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের মানুষ করার চেষ্টা করেছি সবসময়। আজ বিদায় বেলায় সবার ভালোবাসায় আমি অভিভূত। জীবনের বাকি দিনগুলো যেন আমি ও আমার পরিবার সুস্থতার সাথে কাটতে পারি, সেজন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। আমি এই বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।” অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব মো. সোহরাব হোসেন, মো. ইসলাম মোল্যা, বাবু উত্তম কুমার বিশ্বাস, বাবু অপূর্ব মন্ডল, বাবু রাম মন্ডল এবং সহকারী শিক্ষিকা সুরভী ও এ্যানী। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুলের মালা, ক্রেস্ট ও নানা উপহার দিয়ে সম্মানিত করেন। এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই বিদায়ের অশ্রু ঝরতে দেখা যায়। পরিশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রধান শিক্ষক বাবু বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসের বিদায়ী ভাষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।