বোয়ালমারীতে নির্বাচন পরবর্তী সংখ্যালঘু অবমরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মারধর করে পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ
তৈয়বুর রহমান কিশোর
Update Time :
রবিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২২
৫৩৬
Time View
বোয়ালমারীতে নির্বাচন পরবর্তী সংখ্যালঘু অবমরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মারধর করে পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সংখ্যালঘু সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তাকে মেরে তার পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহত ওই ব্যক্তি হলেন উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয় মৃধার ছেলে অজামিল মৃধা (৬২)। মারাত্মক আহতাবস্থায় তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অজামিল মৃধা অবসরপ্রাপ্ত সমবায় কর্মকর্তা। তার দুই মেয়ে ঢাকায় লেখাপড়া করে, আর একমাত্র ছেলে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় আহত অজামিল মৃধা বাদি হয়ে বোয়ালমারী থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে...
133
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সংখ্যালঘু সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তাকে মেরে তার পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহত ওই ব্যক্তি হলেন উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয় মৃধার ছেলে অজামিল মৃধা (৬২)। মারাত্মক আহতাবস্থায় তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অজামিল মৃধা অবসরপ্রাপ্ত সমবায় কর্মকর্তা। তার দুই মেয়ে ঢাকায় লেখাপড়া করে, আর একমাত্র ছেলে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় আহত অজামিল মৃধা বাদি হয়ে বোয়ালমারী থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ হওয়ায় অজামিল মৃধার সাথে চতুল ইউনিয়নের বনচাকি গ্রামের অলিয়ার রহমান ফকিরের ছেলে সোহেল ফকিরের পূর্ব শত্রুতা চলছিল। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অজামিল মৃধা বাড়ি থেকে সার কেনার উদ্দেশ্যে বাইখীর চৌরাস্তা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রামচন্দ্রপুর গ্রামের দারোগার পুকুরের সামনে পশ্চিম পাশের ফাঁকা রাস্তার উপর পৌঁছলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ৬/৭ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে পায়ের হাড় ভেঙে ফেলে। হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন চতুল ইউনিয়নের বনচাকি গ্রামের অলিয়ার রহমান ফকিরের ছেলে সোহেল ফকির (৩০), হাবিবুর রহমানের ছেলে ইমরান শিকদার (২৭), চরশুকদেবনগর গ্রামের আবু মোল্যার ছেলে রেজাউল মোল্যা (৪২), বাইখীর চরপাড়া গ্রামের দাউদ বিশ্বাসের ছেলে তৌহিদ বিশ্বাস (২৮) এবং অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন। এ সময় তারা অজামিল মৃধার পকেটে থাকা ৫ হাজার ২০০ টাকা এবং মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পরে আহতের চিৎকারে আশেপাশের লোকেরা এগিয়ে এসে তাকে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আহতের ডান পা মারাত্মকভাবে ভেঙে যাওয়ায় পরবর্তীতে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে রেফার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অজামিল মৃধা বাদি হয়ে বোয়ালমারী থানায় মামলা করেছেন।
চতুল ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য জালাল সিকদারের লোকজন অজামিল মৃধাকে মেরে পা ভেঙ্গে ফেলেছে।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাফেজা খানম মিলি বলেন, তার একটি পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। তাকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে রেফার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।