1. almoazzintv@gmail.com : Moniruzzaman Monnu : Moniruzzaman Monnu
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

পেটে কাঁচি থাকা মনিরার নারিতে পঁচন ধরেছে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৫১৪ Time View
132

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ডাক্তারের অবহেলায় পেটে কাঁচি রেখে সেলাই করা সেই মনিরা খাতুনের (১৮) প্রায় দুই বছর পর শনিবার (১১ ডিসেম্বর) পুনরায় অপারেশন করে কাঁচি বের করা হয়েছে। পেটের ভিতরে কাঁচি থাকার স্থানে নারীতে পঁচন ধরেছে বলে সার্জারী বিভাগের ডা. রতন কুমার সাহা জানান।

জানা যায়,গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের খাইরুল মিয়ার মেয়ে মনিরা খাতুন (১৮)। মনিরা খাতুন ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেটে টিউমার জন্য ভর্তি হয়েছিল। ভর্তির ৭ দিন পর তাকে  অপারেশন করানো হয়েছিলো।  তারপর মনিরা সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে। কিন্তু তার পেটে তখন কাঁচি রেখে অপারেশন করে ডাক্তার। তার বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। অপারেশনের কিছু দিন পর তার মেয়েকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পৈলানপট্টি গ্রামে বিবাহ দেয়া হয়। বিয়ের পরেও তার পেটে ব্যাথা ছিল। বিয়ের কিছু দিন পর মনিরা অন্তঃসত্ত্বা হয়। পরে মনিরার পেটের বাচ্চা নষ্ট হলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন তার স্বামী।  সম্প্রতি গত ৩ দিন মনিরা খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে মুকসুদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করলে এক্সরে মাধ্যমে ডা. দেখতে পান তার পেটে বড় ধরনের একটা ঝকঝকা সার্জিক্যাল  ক্যাচি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনিরার দ্বিতীয় অপারেশন করে ডা. রতন, তিনি জানান, শনিবার ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন ঘণ্টা চেষ্টা করে মনিরা নামের ওই তরুণীর অপারেশন করে কাঁচিটি বের করতে সক্ষম হয়েছি। মনিরা অজ্ঞান রয়েছে তাই সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পেটের ভিতরে কাঁচি থাকার কারণে তার পেটের নারির কিছু অংশ পঁচন ধরায় কেটে ফেলতে হয়েছে। মনিরা সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২০২০ সালের ৩ মার্চ মনিরা নামে ওই তরুণী ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পেটের টিউমার অপারেশন করাতে সার্জারী ওয়ার্ড-২ তে ভর্তি হন। সেখানে সে ২০২০ সালের ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন। আর সে সময়ে সার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোল্লা শরফুদ্দিন আহম্মেদ ও হাসপাতালটির রেজিস্ট্রার ডা. সৌরভ মনিরা খাতুনের পেটের টিউমার অপারেশন করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী।

এব্যাপারে অভিযোগ উঠা সার্জারী ডা. সৌরভ বলেন, ওই মেয়েটির অপারেশনের সময় শুধু আমি কেন অনেক সিনিয়র ডাক্তারও ছিলেন। এটা হয়তো ভুলবশত হতে পারে।

মনিরার পেটে কাঁচি রেখে সেলাইয়ের ব্যাপারে বলেন, “পেটে কাঁচি থাকার যেটা বলছেন সেটা কাঁচি নয়। ওটাকে ফরসেপ বলা হয়। ফরসেপ রক্তপাত বন্ধে ব্যবহৃত হয়।

অপর অভিযোগ উঠা সার্জারী ডা. মোল্লা শরফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ” এটা তো অনেক পুরনো কথা। তাই আমার মনে পড়ছেনা। তাছাড়া আমার ইউনিটে তো অনেক রোগীই ভর্তি হয়। তাছাড়া অনেক ডাক্তারও থাকেন। তাই বিস্তারিত না জেনে কিছু বলা যাচ্ছেনা।”

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান বলেন, (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে মনিরার পেটে থেকে কাঁচি বের করার জন্য অপারেশন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা কাজ করছি।

এর আগে ‘পেটে কাঁচি রেখেই অপারেশন শেষ!’ ও ‘ অবশেষে মনিরার পেট থেকে বের করা হলো কাঁচিটি” এই শিরোনামে দুটি সংবাদ প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, মনিরা খাতুন নামে এক তরুণী ২০২০ সালের ৩মার্চ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পেটে টিউমার নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তির সাতদিন পর তার অপারেশন করা হয়েছিল। অপারেশনের সে সময় মনিরার পেটে কাঁচি রেখেই সেলাই করে ডাক্তার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category